Tuesday, October 4, 2022
spot_imgspot_img

আপনার বয়স ১৬-২৮ বছর এর মধ্যে হলে আর্টিকেলটি আপনার জন্য

এই আর্টিকেল সেই সকল ছেলেমেয়েদের জন্য যাদের শরীরে এখন সবথেকে বেশি এনার্জি রয়েছে। যাদের মধ্যে অনেক বড় কাজকে করার প্রচুর শক্তি রয়েছে। মানব জীবনের সবথেকে সুন্দর একটি স্টেজে বর্তমানে আপনি আছেন। 

এই সময়কালে আপনি যা চান সেটাই হতে পারবেন।  যা চান সেটাই করতে পারবেন। এই সময়টি কিন্তু বেশিদিন থাকে না বড়জোর দশ থেকে বারো বছর। তারপর আপনার মাথার চুল পাকতে ধরবে কাজে এনার্জি কমে যাবে। ধীরে ধীরে আপনার ফ্রেন্ড সার্কেল ছোট হতে ধরবে। সবাই নিজের নিজের লাইফে বিজি হয়ে যাবে। আজ আপনার যা যা স্বপ্ন রয়েছে বড় বাড়ি গাড়ি নাম যশ খ্যাতি এই টার্গেট গুলির উপর কাজ করার জন্য এর থেকে বেস্ট টাইম আপনি সারা জীবনে আর কোনোদিনই পাবেন না। 

আজ অব্দি পৃথিবীর যত বড় বড় কাজগুলি হয়েছে, তার মধ্যে থেকে 85 শতাংশ ক্রান্তিকারী কাজ এই বয়সেই হয়েছে। যা এই বয়সেই তা শুরু করা হয়েছিল। সুতরাং, এই বয়সে যদি আপনার মনে কোন টার্গেট না থাকে তাহলে আপনি আপনার এই সময়টি নষ্ট করে দিচ্ছেন। 

আর যদি আপনি অলস হন তাহলে তো কথাই নেই আপনি আপনার জীবনের এই গুরুত্বপুর্ন টাইম ওয়েস্ট করে ফেলছেন ফালতু ভাবনার জালে জড়িয়ে। এ ব্যাপারে স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন যে, “যৌবন কাল হলো জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সময়, এই সময় আপনি যা যা করবেন সেই কাজগুলো নির্ধারিত করবে যে আপনার ভবিষ্যৎ কেমন হবে। এই সময়টিতে আপনি যতটা রিস্ক নিতে পারেন কতটা পরিমাণ রিস্ক আপনি আপনার সারা জীবনের নিতে পারবেন না।” 

যেমন আপনি এখন ভালো বা খারাপ কাজ যেটাই করবেন, ততটা আপনি সম্পূর্ণ জীবনে করতে পারবেন না। কিন্তু আজ যে ভালো বা মন্দ কাজ আপনি করবেন তার ফল সারা জীবন আপনি পেতে থাকবেন। আজ এ বয়সে আপনি যতটা পরিশ্রমী করতে পারেন তা আপনি সারা জীবনে হতে পারবেন না। যখন আপনি বিয়ে করবেন আপনার সন্তান হবে তখন আপনি অতটা কনসেনট্রেট ও করতে পারবেন না।  নিজের স্বপ্ন গুলির উপর তখন আপনাকে রিস্ক নিতে ভয় লাগবে। তাই আজ এখন আপনি যতটা শিখছেন এবং যতটা রেস্ট নিচ্ছেন আপনার সম্পূর্ণ জীবনে কাজে দিতে থাকবে যদিও লাইফ আপনাকে প্রতিটা মুহূর্তই নতুন জিনিস শেখাতে থাকবে। 

কিন্তু সেই সকল শিক্ষার মধ্যে থেকে আপনার আজকের যে নলেজ সেটি সবথেকে বেশি প্রয়োজন পড়বে। আজ আপনি নিজেকে যেমন চরিত্রের বানাবেন তেমনি পার্সোনালিটি আপনার সারা জীবন থাকবে। তাহলে একবার ভেবে দেখুন, যে আপনার এই যৌবন কাল কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এবার যারা ভাবছেন, যে আমি কি করবো? কিভাবে রিস্ক নিব কিভাবে? এই সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগাবো  কিভাবে? 

তাদের উদ্দেশ্যে বলি, আপনি শুধু আদেশ করুন বুঝতে পারছেন না? বোঝার দরকার নেই। কাজে লাগাতে পারছেন না, কোন ব্যাপার নেই। রিস্ক নিতে পারছেন না, নিতে হবে না। আপনি শুধু অনুভব করুন, দেখবেন আপনাকে আপনার সকল প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দেবে আপনার মন। আজ আপনি দৃঢ় মনে যে কাজ করবেন, আজ থেকে কয়েক বছর পর আপনি নিজেকে যে স্থানে দেখতে চান সেখানে   দেখতে পাবেন। আজ দেখা স্বপ্ন গুলি কে যদি আপনি পূরণ হতে দেখতে চান তাহলে সেটিকে শুরু করার আজই হলো সবথেকে বেস্ট.

কোন ফিল্ডে ছোট নয়। প্রতিটি ফিল্ড এই মহান ব্যক্তি রয়েছে। মানে আপনার যে ফিল্ডে ইন্টারেস্ট রয়েছে সেটি আপনাকে নাম যশ খ্যাতি এবং শান্তি দিতে পারবে। তাই কোন ফিল্ড বড় এবং কোন ফিল্ড ছোট এরকম ভাববেন না। এক্ষেত্রে “স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন ওঠো জাগো এবং ততক্ষণ অব্দি কাজ করতে থাকো যতক্ষণ পর্যন্ত না তুমি তোমার গন্তব্যে পৌঁছে যাও” 

আপনি যদি অন্ধভক্তের মত ঈশ্বরকে বিশ্বাস করেন। তাহলে আপনার সেটা করা উচিত নয়। কারণ ঈশ্বর তাদের সাহায্য করেন যারা নিজের উপর বিশ্বাস করেন। ঈশ্বর তাদেরকেই পথ দেখান যারা নিজের চলার জন্য ইচ্ছুক থাকেন। একবার ভেবে দেখুন, মনে হয় না আপনি ছোট ছিলেন কত কিউট ছিলেন, হ্যাপি ছিলেন, লাইফ একদম বিন্দাস ছিল। আর এখন দেখুন আপনি কত বড় হয়ে গেছেন, কত চিন্তাভাবনা, টেনশন, স্ট্রেস, রেস্পন্সিবিলিটি এসে পড়েছে। তখন দেখবেন আপনার বার্ধক্য তাড়াতাড়ি চলে আসবে। এখন যারা আপনার সবকিছু যাদেরকে আপনি নিজের সার্কেল মনে করছেন তাদের মধ্যে থেকে 9% ব্যক্তি সেই সময় আর থাকবে না, কারণ এটা সময্‌ নদীর মত বয়ে চলেছে। 

এই জন্যই বলছি যে, একসময় এমন আসবে যখন আপনার কাছে আর সময় থাকবে না। তখন দেখবেন যে সময় নেই বটে কিন্তু মনের স্বপ্নগুলো পাহাড় জমে রয়েছে। তখন রিপিট করা ছাড়া আপনি আর কিছুই করতে পারবেন না। তাই আজ বরং এখন থেকেই যে অভ্যাস গুলোর কারণে আপনার সময় নষ্ট হচ্ছে, সে অভ্যাসগুলোকে ত্যাগ করার সময় চলে এসেছে। আর যে ভাবনাগুলি মনে আসার কারণে আপনার সময় পুরো নষ্ট হয়ে যায়। সেই ভাবনাকে ত্যাগ করার সময় চলে এসেছে। 

আপনি হয়তো জানেন না, আপনার যে ক্যাপাবিলিটি আছে তাহলে আপনার মধ্যে ইনফিনিট ক্ষমতা আছে। আপনি তো জাস্ট ক্ষণিকের আনন্দের জন্য এই বড় বড় দিকগুলি থেকে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে যান। এই যৌবন কালে আপনি চাইলে ১০ ঘন্টা মোবাইলে গেম খেলতে পারেন, ড্রিঙ্ক করতে পারেন, করতে পারেন পার্টি, বলতে পারেন ঘন্টার পর ঘন্টা ফোনে কথা, অবশ্যই এগুলো আপনাকে ক্ষণিকের সময় আনন্দ দেবে। আপনি নিজেই আপনার জীবনকে নষ্ট করছেন। 

আপনি হয়তো এটা এখন অনুভব করতে পারছেন না আর যারা এই ২৬-২৭ বছরের যৌবনকালটাকে পার করে এসেছে, তারা এখন এই জিনিসগুলো কে হাড়েহাড়ে বুঝতে পারছে। আর এই সময় যদি একবার পার হয়ে যায় তখন যদি আপনি ভাবেন যে, আমি এখন শুধরাবো নিজেকে ঠিক করব। আপনি পাববেন তবে আপনার কাছে সময় নেই তাই আপনাকে এখনই পরিবর্তন হতে হবে।

তাই এখন একেবারেই টাইম ওয়েস্ট করবেন না। এরকম ভাবে আপনিও ইমারজেন্সি ক্রিয়েট করুন। যে আপনার কাছে সময়ের অভাব রয়েছে। যদিও আজ নিজের স্বপ্নকে পূরণ করার জন্য হাই রিস্ক নিতে হয় তবু নিন। লাইফের খুবই জরুরি যদি আপনার স্বপ্ন সাকসেসফুল হয় তাহলে আপনি তো জিতে যাবেন আর যদি আপনি জিততে না পারেন, তাহলে আপনি অভিজ্ঞতা, এক্সপিরিয়েন্স পাবেন অভিজ্ঞতাকে আপনি লোকেদেরকে শেয়ার করতে পারেন এই অভিজ্ঞতা দ্বারা আপনি পৃথিবীতে গাইড করতে পারবেন।

আজ আপনি লাইফের যে স্টেজে আছেন এখানে ডিস্ট্রাকশন এর অভাব নেই। হাজার হাজার জিনিস রয়েছে যাকে পথভ্রষ্ট করতে পারবে। এই সময়ে আপনি বহু লোককে পাবেন যারা না চাইতেও আপনাকে বহু গাইডেন্স এবং উপদেশ দেবে। আপনার ওপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করবে তাই সবথেকে প্রথমে আপনাকে নিজের মাইন্ড সেট কে চেঞ্জ করতে হবে, নিজের কমফোর্ট জোন থেকে বেরিয়ে আসতে হবে, ভালো রাখতে হবে নিজের মস্তিষ্ককে, ফিট রাখতে হবে নিজেকে। আর নিজেকে ছোট মনে করা আপনার সব থেকে বড় ভুল।

লাইফের প্রবলেম টা আসবে চলে যাবে। এটা জাস্ট পার্ট অফ লাইফ। লাইফ এ নেগেটিভ এবং নেগেটিভ ইমোশনস আপনাকে ধীরে ধীরে মেন্টালি অসুস্থ করে তুলবে আর এ নেগেটিভ আপনাকে দিয়ে কোন না কোন নেগেটিভ কাজ অবশ্যই করাবে। আজ আপনার এই যৌবন থেকে একটি আশীর্বাদ মনে করে এই সময়কে সঠিকভাবে ব্যবহার করা উচিত। কারণ আপনি অনেক প্রেসার সহ্য করে নিতে পারবেন কিন্তু বয়স বাড়লে আপনি সেই প্রেসার গুলিকে নিতে পারবেন না। আশা করছি এই আর্টিকেল থেকে আপনি অনেক কিছু জানতে ও শিখতে পেরেছেন।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আমাদের ফলো করুন

2,258FansLike
1,069FollowersFollow
1,569FollowersFollow
- Advertisement -spot_img

আরোও পড়ুন