Tuesday, October 4, 2022
spot_imgspot_img

এই ১০ নিয়ম মানলে আপনার শিশু হবে আপনার মনের মত

শিশুর যথাযথ বিকাশের জন্য শৃঙ্খলার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। একটি শিশুকে সঠিকভাবে ম্যানিপুলেট করা আপনার ধৈর্যের পরীক্ষা। যাইহোক, যদি আপনি প্রথম কয়েক বছর ধৈর্য ধরেন, আর কয়েকটি নিয়ম মেনে চলেন তাহলে আপনি শেষ পর্যন্ত ভালো ফল পাবেন। তাইলে জেনে নেয়া যাক কি কি বিষয় গুলো আমাদের মাথায় রাখা উচিত-

১. সারাক্ষন ‘না’ বলবেন না

আপনি জানেন, নিষিদ্ধ জিনিস সম্পর্কে মানুষ একটু বেশিই কৌতূহলী। যখন তারা ছোট তখন সবকিছুতে ‘না’ জবাব দিলে তখন তাদের জেদ আরও বেড়ে যায়। এছাড়াও যখন তাদের হুমকি দেওয়া হয় বা তাদের কোন কাজের সরাসরি বিরোধিতা করা হয় তখন তারা সেই কাজ করার প্রতি প্রবল আগ্রহী হয়ে উঠে। তাই সরাসরি “না” বলবেন না। মিষ্টি কথা দিয়ে বিভিন্ন উপায়ে বোঝানোর চেষ্টা করুন। 

২. শিশুর মত চিন্তা করুন:

শিশুকে শিশুর মতো করে বুঝুন। তার জন্য সবকিছুই নতুন। সবকিছু ঘেটে দেখার ইচ্ছা তার। সবেমাত্র মায়ের কোল থেকে বাইরের পৃথিবীকে চিনতে পারছে। সুতরাং তার এবং আপনার দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে বিশাল পার্থক্য থাকবে, এটাই চরম সত্য! সেজন্য আপনার সন্তানের অনুভূতিগুলিকে গুরুত্ব দিন। তাকে আদর করেন। ধরুন, “আপনার শিশু মোটেও ব্রাশ করতে চায় না, সুতরাং তার মুখে জোর করে ব্রাশ না ঘসে তাকে বলতে পারেন “ব্রাশ না করলে মুখের মধ্যে পোকারা বাসা বাঁধে এবং রোজ দুবেলা ব্রাশ করা একটা নিয়ম। আমারও ভালো লাগে না কিন্তু পোকার ভয়ে রোজ ব্রাশ করি।” এতে সন্তানের উপর কিছু চাপিয়ে দেয়া হয়নি এবং আপনি ব্রাশ করার গুরুত্ব বুঝতে পেরেছেন।

৩. পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে কাজ করুন:

বাচ্চারা বড় হয়ে অনেক আবদার করে, এবং যদি তাদের মধ্যে একটি বা দুটি মেনে করা হয়, তাহলে কোন বড় ক্ষতি নেই। আর শিশুকে সবসময় শাসন ও করতে হয় না। যেগুলা কাজ অনৈতিক সেগুলো যেমন মেনে নেবেন না সেরকম; সবসময় শিশুকে চোখ রাঙাবেন না। মাঝে মাঝে তাকে ছোট শিশুর মত ছেড়ে দিন।

৪. বোঝানোর ধরন পরিবর্তন করুন:

মেরেধরে, চিৎকার করে, রাগ করলেও শিশু মানুষ হবে না। এমনকি যদি সাময়িকভাবে এই কাজগুলো করা হয়, তাহলে এই ব্যাঘাতগুলি ভবিষ্যতে মা এবং শিশুর মধ্যে ভারসাম্য বিঘ্নিত করতে পারে। তাই আদর দিয়ে ব্যাখ্যা করুন, পুনরাবৃত্তি করুন। আপনি আপনার সন্তানের ভাল জানেন। তাই সে যেভাবে পছন্দ করে তাকে সেভাবেই ব্যাখ্যা করুন।

৫. উত্তেজনার পরিস্থিতি থেকে শিশুকে সরান:

যদি কোনো কারণে শিশু উত্তেজিত হয়ে পড়ে বা প্রবল প্রবণতা শুরু করে। তাকে সেই জায়গা বা পরিস্থিতি থেকে বের করার চেষ্টা করুন। কিছু দেখানোর বা শিশুসুলভ গল্প বলার মাধ্যমে তার মনের চিন্তাভাবনা ঘুরিয়ে দিন।

৬. কখনও কখনও তাকে এড়িয়ে চলুন:

মাঝে মাঝে তাকে এড়িয়ে চলুন। শিশুকে জেদ করতে দিন, কাঁদতে দিন, অন্যায় আবদার কখনই গ্রহণ করবেন না। এক্ষেত্রে আপনাকে একটু শক্ত হতে হবে। শিশুরা বেশিরভাগ সময় কাঁদে কিন্তু তারা আসলে সবার মনোযোগ আকর্ষণ করতেই ইচ্ছে করে কাঁদে। যদি আপনি তা বুঝতে পারেন, তাহলে শিশুকে কাঁদতে দিন। যদি শিশুটি কাঁদে এবং সবকিছু তার হাতের কাছে চলে আসে, তাহলে শিশুটি মজা পাবে। যে কোন কিছুতেই কান্না তার একমাত্র অস্ত্র হবে।

৭. বিভিন্ন কিছুর উদাহরণ দিন:

অন্য বাচ্চার সাথে তুলনা করে মারধোর করতে বলছি না এক্কেবারেই। শিশুর কাছে প্রিয়জনের ভালো গুণাবলী বা বন্ধুর ভালো দিকগুলি ব্যাখ্যা করুন। তবে আপনি এভাবে বলতেই পারেন, “দেখ, তোর বন্ধু রোজ হোম ওয়ার্ক করে স্কুলে, তোর মতো বদমাইশ নয়।” -এই পদ্ধতিতে বলা সম্পূর্ণ ভুল। আপনি এভাবে বলতে পারেন “কাল ম্যাম তোমার বন্ধুকে খুব আদর করছিলো, কারন ও প্রতিদিন নিজের হোম ওয়ার্ক করে আসে। তুমি রোজ হোম ওয়ার্ক করলে তোমাকে আরও বেশি আদর করবে সবাই।” এভাবে বললে আদরের লোভেই হয়তো সব কাজ করে ফেলবে।

৮. নিয়মিত একটি রুটিন মেনে চলুন:

রুটিন মেনে নিয়মিত কাজগুলি অনুসরণ করুন। বাচ্চাদের পাশাপাশি নিজেদেরও। এই নিয়মটি সবসময় শেখান। শিশুকে বুঝিয়ে দিন যে প্রতিদিন খাওয়া, ব্রাশ করা এবং ঘুমানো আমাদের রুটিন; এছাড়াও কিছু স্বভাব তার মধ্যে থাকা জরুরী। উদাহরণস্বরূপ বলতে পারেন, কারও সামনে তোমার নাকের ভেতরে হাত দেবে না, কারও শরীরে পা দিবা না বা কেউ বাড়িতে এলে প্রথমে তার সাথে হাসিমুখে আচরণ করবা এসব। ছোটবেলা থেকেই এই স্বভাবগুলিকে শিশুর সাথে পরিচয় করিয়ে দিন।

৯. তার প্রশংসা করুন:

মন খুলে তার প্রশংসা করুন। আপনার শিশু একটি ছবি আঁকল (হয়তো সেটা কিছু হিজিবিজি দাগ); তা দেখে শুধু ভালো হয়েছে না বলে বলতে পারেন,“তুমি যেভাবে লাইনগুলো দিয়েছ দাগ টেনেছো, সেটা খুব ভালো হয়েছে। আমাকে একটু শিখিয়ে দেবে?”

তখন, আপনার শিশু নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করবে। আপনি যদি তার কাছ থেকে শিখতে চান, তাহলে সে তার শিশু মনের মাধুরী মিশিয়ে আপনাকে শেখাতে আরও সৃজনশীল হওয়ার চেষ্টা করতে পারে। আপনি যদি আপনার শিশুর খোলাখুলিভাবে প্রশংসা করেন তাহলে সে তার সামনে থাকা অন্যের কাজকে সম্মান করে। ভবিষ্যতে সে অন্যের গুণাবলীকেও সম্মান করতে শিখবে।

১০. প্রয়োজনে শাসন করুন:

সব সময় তাকে আদর দিয়ে বাদর বানানোর দরকার নেই। প্রয়োজনে শাসন করতে হবে তাকে। যাতে শিশু বুঝতে পারে যে অন্যের চিন্তা বা অনুভূতিগুলিকেও সম্মান করা প্রয়োজন। কিন্তু শাসন মানে এই না যে আপনার শিশুকে মারধর করা। তার সাথে কয়েক ঘন্টা কথা বলবেন না বা খেলবেন না, আদর করবেন না। যাতে সে বুঝতে পারে, তার মায়ের ইচ্ছাকেও সম্মান করা উচিত। 

বাচ্চাকে সহশিক্ষা দেওয়া বা শাসন করা সহজ কাজ নয়। আবার, ব্যতিক্রম আছে, বিশেষ করে শিশুদের জন্য। কেউ দ্রুত শেখে, অন্যরা সময় নেয়। তাই বাবা -মা, ধৈর্য ধরুন। সন্তানের বয়স মাথায় রেখে আপনার প্রত্যাশা তৈরি করুন। প্রতিটি শিশু তার নিজস্ব ব্যক্তিত্ব এবং আদর্শ নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। পিতামাতার দায়িত্ব তাকে গড়ে নিতে হবে। অতিরিক্ত নিয়মে বেঁধে শিশুর পরিচয় যেন হারিয়ে না যায়। তবেই শিশু পূর্ণ, রুচিশীল এবং সুন্দর মানুষ হয়ে উঠবে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আমাদের ফলো করুন

2,258FansLike
1,069FollowersFollow
1,569FollowersFollow
- Advertisement -spot_img

আরোও পড়ুন