Tuesday, October 4, 2022
spot_imgspot_img

গাঁজা দিয়ে তৈরী হতো চকলেট, আটক তিনজন।

গাঁজা দিয়ে তৈরি হত কেক, চকলেট, মিল্কশেক। এসব তৈরি ও বিক্রি করে আসছে এক মাদক কারবারি চক্র। বেচাকেনার মাধ্যমেহিসেবে ব্যবহার হচ্ছে অনলাইন।

এই সামগ্রীগুলো বিক্রি করতে তৈরি হয়েছিল অনলাইনের এক বিশাল নেটওয়ার্ক। অর্ডার দিলে পৌঁছে যেত জায়গামতো। এসব পণ্য কেনা-বেচা ক্ষেত্রে পাঠাও,ফুড পান্ডার মতো সার্ভিস ডেলিভারি সার্ভিস হিসেবে ব্যবহার করছে তারা।

গাঁজা থেকে বানানো সামগ্রী ~ ছবিঃ সংগৃহীত

দেখে মনে হবে, দামি বিদেশি কোন চকলেট, কেক, জুস কিংবা মিল্কশেক। এগুলো অবিকল বাজারের পণ্যের মতোই। আসলে সবই গাজার নির্যাস থেকে তৈরি বিশেষ ধরনের মাদক। এই অভাবনীয় কাজটি যারা করতেন সেই চক্রের ৩ জনকে ধরেছে গুলশান থানা পুলিশ। পুলিশ জানায়, তাদের গোপন সোর্স থেকে গতকাল তারা তথ্য পায়, এক মাদক ব্যবসায়ী গুলশান এলাকায় মাদক ডেলিভারি দিতে যাচ্ছেন। সেই খবরের ভিত্তিতে গুলশান এলাকা থেকে পাঁচ হাজার লোকের পেছনে বসে থাকা মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে পুলিশ। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে জুবায়ের হোসাইন, অনুভব খান রিবুও নাফিসা নামের তিন জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে পুলিশ। তাদের থেকে এক কেজি গাঁজা, আল্যুমিনিয়াম ফয়েল পেপার সহ আরো অনেক উপকরন সামগ্রী উদ্ধার করে পুলিশ।

তারা জানায় ইনস্ট্রাগ্রামে অর্ডার নিয়ে ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় এসব মাদক ডেলিভারি দিতো তারা। তারা জানায় ফ্ল্যাটে গাজা দিয়ে মিল্কশেক গাজার নির্যাস দিয়ে তৈরি বিভিন্ন ধরনের চকলেট কেক তৈরি করতেন।

এক কেজি গাঁজার চকলেট তৈরি করতে পাঁচ কেজি গাঁজার নির্যাস প্রয়োজন হয় বলেও জানায় তারা। এসব প্রক্রিয়াজাত মাদক গাঁজার চাইতেও অনেক বেশী দামে বিক্রি করা হয় বলে জানিয়েছেন তারা। এই পন্য গুলোর গ্রাহক গুলোও সমাজের সচ্ছল পরিবারের সদস্যরা।

শুধুমাত্র গাজা নয়, সব ধরনের মাদক সেবনকারী আর ব্যবসায়ীরা দিন দিন তাদের কৌশল পরিবর্তন করছেন। পুলিশ বলছে তারা তৎপর রয়েছে অভিযান পরিচালনা করছেন। যাতে প্রতিনিয়ত মাদকের বিস্তার রোধ করা সম্ভব হয়।

এই প্রসঙ্গে গুলশান থাকা পুলিশের উপ-কমিশনার মোঃ আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন “অনলাইন ভিত্তিক একটি গ্রুপ তারা তৈরি করেছে। প্রায় এগারশো সদস্য তাদের আছে। যারা এই অনলাইনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে বিভিন্ন ভাবে তারা আমাদের এই অনলাইন প্লাটফ্রমটাকে ইউজ করে তারা গাঁজা বা তাদের গাঁজা বা এই ধরনের খাদ্য সামগ্রী তৈরি করে। ইন্টারনালি তারা এভাবে এগুলো আদান-প্রদান করছে। বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেল থেকে বা বিভিন্ন ভাবে তারা দেখেছে, এই প্রোডাক্ট গুলো এভাবে তৈরী হয়। এই প্রাথমিক জ্ঞান থেকেই তারা এটা শুরু করেছে তবে এখানে আরো ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন আছে। তারা কিভাবে কোন কমপোজিশন কোথা থেকে এই জিনিসগুলো পেল এগুলো আমরা বের করার জন্য সচেষ্ট থাকিব।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আমাদের ফলো করুন

2,258FansLike
1,069FollowersFollow
1,569FollowersFollow
- Advertisement -spot_img

আরোও পড়ুন