Tuesday, October 4, 2022
spot_imgspot_img

ঝামেলা কিনে লাখপতি হলেন ময়মনসিংহের সায়েম আহমেদ, দেখুন কিভাবে…

ঝামেলা যা আমরা প্রত্যেকে এড়িয়ে চলতে চাই। আমরা সবাই যেখানে ঝামেলা কে অপছন্দ করি সেখানে ঝামেলা কিনে ব্যবসা করছে ময়মনসিংহের সায়েম আহমেদ। শুধু তাই নয়, এই ঝামেলা কেনা-বেচার মাধ্যমে প্রতি মাসে তিনি আয় করেন প্রায় লাখ টাকা। এই ব্যাবসার মাধ্যমে তিনি, ২১ বছর ধরে সংসার চালাচ্ছেন, দিন কাটাচ্ছেন সুখে। অবাক করার মতো বিষয় হলেও তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এর নাম ‘মেসার্স ঝামেলা কিনি’ এবং এটি ময়মনসিংহ শহরে। ‘মেসার্স ঝামেলা কিনি’ প্রতিষ্ঠানের মালিক সায়েম আহমেন নিজেই।

তাহলে এখন প্রশ্ন হলো ঝামেলা বলতে তিনি কি কিনেন?

বাসা বাড়িতে ব্যবহৃত পুরনো আসবাবপত্র যেমন টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটারসহ ঘরের আসবাবপত্র ঝামেলার কারণ হয়ে দাড়ায় অনেকের কাছেই। সেগুলোই কেনা বেচা করেন সায়েম। আর এতেই তার মাসিক আয় দাঁড়ায় লাখ টাকার ঘরে।

প্রতিষ্ঠানের নামের এমন ভিন্নতা কাজে লাগছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। প্রতিষ্ঠানের এমন আজব নাম হওয়ার কারন ও জানায় সায়েম নিজের বক্তব্যে। তিনি বলেন “আমি আমার প্রতিষ্ঠানের নামের ব্যাপারে দুই-তিন মাস চিন্তা-ভাবনা করি। হঠাত এক সময় মনে হলো, যখন বাসার জন্য নতুন কোনো আসবাবপত্র কেনা হয় তখন পুরোনো আসবাবপত্র বাসার জন্য ঝামেলার কারন হয়ে দাঁড়ায়। আর এগুলো মানুষের কাছে যেহেতু ঝামেলা মনে হয় এবং সেগুলো আমি কিনব। তাই সিদ্ধান্ত নিলাম প্রতিষ্ঠানের নাম দেবো ‘মেসার্স ঝামেলা কিনি’।”

এবং এরপর তিনি এই নামে প্রচার শুরু করে এবং বিভিন্ন স্থান থেকে পুরোনো আসবাবপত্র কিনে সেগুলোকে মেরামতের মাধ্যমে ব্যবহার উপযোগী করে পুনরায় বিক্রি করতে শুরু করে। এবং প্রচারণা খুব ভালোমতো কাজে লাগে, ফেসবুক পেজ থেকেও নিয়মিত কল ও পায় সায়েম।

প্রতিষ্ঠানে রাখা আসবাব পত্র

জানা গেছে, ডিগ্রি প্রথম বর্ষে থাকা অবস্থায় সায়েম আহমেদ তার বাবাকে হারান। এরপর অভাব অনটনের সংসারে পড়াশুনা চালিয়ে যাওয়া আর সম্ভব হয়নি। এক পর্যায়ে ২০০০ সালে বলাশপুর এলাকায় স্বল্প পুঁজি নিয়ে এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেন।

সায়েম বলেন, “আমি বাবস্যা করবো বলে মনস্থির করি। ভাবতে থাকলাম কী করা যায়। তখন দেখলাম অনেক মানুষ ফার্নিচার বদলায়। সেক্ষেত্রে আমি এই সুযোগটা নেওয়ার চেষ্টা করি এবং কম পয়সায় সেগুলো কিনে তা মেরামত করে একটু বেশি দামে বিক্রির চিন্তা করলাম। তারপর এটি শুরু করে প্রচার-প্রচারণা চালানোর পরমানুষজনের কাজ থেকে আমি ভালো সাড়া পাই। ধীরে ধীরে এর মাধ্যমে লাভবান হতে শুরু করি এবং আল্লাহর রহমতে পরিবারে সচ্ছতা আবার ফিরে আসে। শুরুতে আমি একা কাজ করলেও বর্তমানে আমার কর্মী সংখ্যা ৮ জন।”

তিনি জানায়, “এই নামটি দিয়ে আমি ট্রেড লাইসেন্স করতে পারছিলাম না। তবে, আমি যেহেতু অনেক প্রশাসনিক ব্যক্তিদের বাসার পুরাতন আসবাবপত্র কিনতাম সেই পরিচয়ের সুবাদে তারা সুপারিশ করে আর ট্রেড লাইসেন্সটি এই নামেই পেয়ে যাই। এরপর থেকে আমার আর থেমে থাকতে হয়নি।” তার প্রতিষ্ঠানটি ২১ বছর ধরে সগৌরবে চলছে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আমাদের ফলো করুন

2,258FansLike
1,069FollowersFollow
1,569FollowersFollow
- Advertisement -spot_img

আরোও পড়ুন