Tuesday, October 4, 2022
spot_imgspot_img

মহাবীর হনুমানজী কতটা শক্তিশালী, জানলে নিশ্চই চোখ কপালে উঠবে-

হনুমানজী অনেক শক্তিশালী। মহা শক্তিশালী রাবনকে তিনি খুব সহজেই মেরে ফেলতে পারতেন। হনুমানজী এটি করেননি কারন শ্রীরাম চন্দ্রের মহিমা যে বিস্তার করতে হতো। রামায়নের অন্তর্ভুক্ত একটি ঘটনা অনুসারে, রামদূত হনুমানজীর শক্তির ধারনা পাওয়া যায়,

বালি এবং সুগ্রীব দুই ভাই। বালি বড় ভাই। দুজনই ব্রহ্মার ঔরস পুত্র ব্রহ্মার বরদানের ফলে বালি ও সুগ্রীবের জন্ম হয়। তাই ব্রহ্মার কৃপা সবসময় এদের উপর থাকতো। বালি ব্রহ্মা হতে বরদান প্রাপ্ত করেছিল যে, “যখনি কেউ বালির সাথে যুদ্ধ করতে অাসবে, বালির শত্রুর শরিরের অর্ধেক শক্তি ও ক্ষমতা বালির শরীরে এসে পরবে”। এতে করে বালি অারও বলবান হয়ে যাবে। এই বরদানের ফলে অহংকারী বালি সবার সাথে যুদ্ধ করে জয় লাভ করে এবং অন্যায় অবিচার করা শুরু করে। বালির অহংকার অারও বেড়ে যায় যখন, ত্রিলোক বিজয়ী লংঙ্কাপতি রাবনের মত শক্তিশালী ও প্রতাপশালী তার সাথেও যুদ্ধে পরাজিত হয়। বালি যুদ্ধে রাবনকে হারিয়ে তার লেজ দিয়ে বেধে ৬ মাস পর্যন্ত রাবনকে অাটকিয়ে সাথে নিয়ে পুরো পৃথিবী ঘুরেছিলো। এরপর রাবন ক্ষমা চেয়ে বন্ধুত্ব করে নেয় বালির সাথে।

বালি নিজেকে এই পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি শক্তিধর মনে করছিলো। তার শক্তির সাথে কেউ জয় লাভ করতে পারবে না এমনটাই ভেবে নিয়েছিলো সে। একদিন এই অহংকারে বালি একটি জঙ্গলের সব গাছ পালা সব উপড়ে ফেলছিলো, একটি একটি করে প্রত্যেকটি সরোবর দূষিত করছিলো অার সবাইকে যুদ্ধের জন্য অাহব্বান করছিলো। গাছ উজাড় করে ফেলছিলো অার গর্জন করে বলছিলো

“কেউ কি অাছে অামার সাথে যুদ্ধ করবে, অামাকে এই বন নষ্ট করা হতে থামাবে? যদি কেউ এমন থাকো তাহলে অাসো, অামার সাথে যুদ্ধ করো”

আর সেই জঙ্গলের মাঝামাঝি স্থানে হনুমানজী রাম নামের ধ্যান তপস্যা করছিলো। তার ধ্যান হটাত করে ভেঙ্গে যায় বালির উপদ্রবে। হনুমানজী বালির সম্মুখে দাড়িয়ে বলল,

“হে বীর, এত সুন্দর গাছ তথা সব জীবের ক্ষতি কেনো করছো? এত সুস্বাদু ফল দেয় যে গাছ তাদের কি কারনে সর্বনাশ করছো? তুমি ব্রহ্মাদেবের বরদান এভাবে নষ্ট করিয়ো না। রাম নাম জপ কর তোমার জীবন ধন্য হয়ে যাবে।”

বালি তার অহংকারে বলল,

“এই তুচ্ছ বানর তুই অামাকে জ্ঞান দিচ্ছিস? অামার সামনে বড় বড় বীর মাথা নত করেছে। অামার হুঙ্কারে পাথর ভেঙ্গে চূর্ণ হয়ে যায়। এই তুচ্ছ বানর যা তুই কর তোর রাম নামের ভক্তি। আর কে  এই রাম? আমি কখনও রামের নাম কারো মুখ থেকে শুনিনি।”

তখন হনুমানজী বলল,

“প্রভু শ্রীরাম ত্রিলোকেশ্বর। তাঁর মহিমা অপার। প্রভু শ্রী রাম সেই মহাসাগর যার এক বিন্দু জল যদি কেউ পায়, সে তার জীবন এই ভবসাগরকে পার করে যায়।

এরপর বালি বলল,

“এতই যদি তোর রাম মহান তাহলে ডাক তোর রামকে। দেখি কত শক্তি তাঁর, আমি তাকে যুদ্ধে পরাজিত করে তোর প্রভু হবো”

এরুপ কটুবাক্য শুনে, হনুমানজী ক্রোধে বিকট হয়ে বলল,

“এই অহংকারী বালি, তুই প্রভু শ্রীরামকে পরাজিত করবি? আগে তুই শ্রীরামের এই তুচ্ছ সেবককে পরাজিত করে দেখা।”

বালি উত্তরে বলল,

“ঠিক আছে, আগামীকাল, প্রাতঃকাল নগরের মাঝামাঝি স্থানে আমরা যুদ্ধ করবো; তখন দেখব তুচ্ছ বানরের কত ক্ষমতা।”

পরের দিন সকালে হনুমানজী বের হতেই যাচ্ছিলো নিজের ছোট কুড়েঘর থেকে। তখন হটাত, ব্রহ্মদেব এসে উপস্থিত হলো তাঁর ঘরে। তখন হনুমানজী বলল

“হে ব্রহ্মদেব, আপনি আমার মতো তুচ্ছ বানরের ঘরে এসেছেন অবশ্যই বিশেষ কোন কারণ আছে।”

তখন ব্রহ্মাদেব বলল,

“হে অঞ্জনিপুত্র শিবাংশ রামভক্ত হনুমান। আমার পুত্র বালির ঔদ্ধত্যের জন্য তাকে ক্ষমা করে দাও আর যুদ্ধের জন্য যেও না।”

তখন হনুমানজী বলল,

“হে ব্রহ্মাদেব যদি বালি অামাকে অপমান করতো তাহলে আমি নিশ্চিতরূপে তাকে ক্ষমা করে দিতাম। কিন্তু সে প্রভু শ্রীরামচন্দ্রের নামে কটুবাক্য বলেছে তাঁকে অপমান করেছে। এখন অামি যদি যুদ্ধের জন্য না যাই তাহলে এই জগৎ অামাকে কাপুরুষ বলবে। এই বলবে যে এক বড় যোদ্ধা অামাকে অাহবান করেছে অার অামি তার প্রতাপে ভয় পেয়ে গেছি। তখন ব্রহ্মাদেব কিছুক্ষণ চিন্তা করে বলল,

“ঠিক আছে, তাহলে তুমি যুদ্ধে যাও হনুমান। কিন্তু শুধুমাত্র তোমার শক্তির ১০% শক্তি তুমি সাথে নিয়ে বালির সাথে যুদ্ধ করো। বাকী ৯০% শক্তি তুমি শ্রীরামচন্দ্রের চরণে রেখে যাও। পরে যুদ্ধ শেষ হলে তুমি সেই ৯০% শক্তি আবার ফিরিয়ে নিজের শরীরে নিয়ে নিও।”

হনুমানজী বলল, ঠিক আছে।

হনুমানজী তাঁর শক্তির শুধুমাত্র ১০% শক্তি নিয়ে নগরে উপস্থিত হলো। সেখানে কুস্তী করার জন্য জায়গা তৈরী করা অাছে। হনুমানজী যেই কুস্তীর অাখড়ায় পা দিল। তখনই হনুমানজীর অর্ধেক শক্তি বালির মধ্যে চলে গেল। বালি সেই হনুমানজীর অর্ধেক শক্তি শরীরে অাসতেই শরীরে বিশাল হয়ে ফুলে ফেটে রক্ত পরা শুরু হয়। বালি কিছুই বুঝতে পারে না তখন ব্রহ্মদেব বালিকে দিব্যদর্শন দিয়ে বলল, বালি পুত্র তুমি এখান থেকে দ্রুত দূরে চলে যাও অনেক দূরে। বালি পিতার কথা মতো দৌড়াতে লাগলো প্রায় ১০০ মাইল এর বেশি যাওয়ার পর পথে ক্লান্ত হয়ে পরে যায়। পরে যখন বালির জ্ঞান ফিরলো তখন ব্রহ্মদেবকে জিজ্ঞেস করলো,

এইসব কি হলো? অামি হনুমানের সাথে যুদ্ধের আগে এইসব কি হলো? অামার শরীর ফেটে রক্ত ঝড়ছিল কেন? অার তখন অাপনি অামাকে পালাতে বললেন কেন?

ব্রহ্মদেব তার উত্তরে বলল,

“বালি হনুমানজীর অর্ধেক শক্তি তোমার শরীরে এসে পরায় তোমার শরীর ফেটে রক্ত ঝড়ছিলো। তোমার তখন কেমন অনুভূতি হয়েছিলো? বালি বলল,

“পিতা আমার অস্থির লাগছিলো। সেই সময় এমন মনে হচ্ছিলো যেন কয়েক হাজার মহাসাগরের ঢেউ একসাথে আমার শরীরে এসে লাগছে ধাক্কা দিচ্ছে।

তখন ব্রহ্মদেব বলল,

“বালি অামি হনুমানজীকে বলেছিলাম, তোমার সাথে যুদ্ধ করার অাগে তাঁর শক্তির শুধুমাত্র ১০% নিয়ে যেতে যুদ্ধ করতে। বালি পুত্র কিন্তু তুমি হনুমানজীর ১০% এর অর্ধেক অর্থাৎ ৫% শক্তিও সামলাতে পারলে না। তাহলে ভাবো যদি হনুমানজী তাঁর সম্পূর্ণ শক্তি নিয়ে তোমার সাথে যুদ্ধ করতে অাসতো তাহলে তোমার কি অবস্থা হতো?

এই কথা শুনে বালি দুশ্চিন্তায় লাল হয়ে গেল অার বলল, পিতা তাহলে হনুমান তাঁর সম্পূর্ণ শক্তি কোথায় ব্যাবহার করবে। তখন ব্রহ্মদেব বলল হনুমানজী তাঁর শক্তির ১০% শক্তি এই পৃথিবীতে ব্যবহার করলেও এই পৃথিবী সেটা সহ্য করতে পারবে না কিন্তু প্রয়োজনমত শক্তি শ্রীরামচন্দ্রের কাজে লাগাবে।

বালি এই কথা শুনে হনুমানজীর চরণে প্রনাম করে ক্ষমা চাইলো অার জানতে চাইলো এত শক্তিধর হয়েও অাপনি হনুমান এত শান্ত হয়ে থাকেন, অার রাম ভজন করে অানন্দে বিরাজ করেন কিভাবে? তখন হনুমানজী তার উদ্দেশ্যে বলেন,

“রাম নামই শক্তি, রাম নামই ভক্তি, এটাই তোমার আমার সবার মুক্তির পথ। জয় শ্রী রাম”
বহুবছর পরে, শ্রীরামচন্দ্র বালিকে বধ করে মোক্ষ প্রদান করে অার সুগ্রীবকে বানরদের রাজা
বানিয়ে দেয়।হনুমানজী হলো অতুলনীয় প্রচন্ড শক্তির অধিকারী, এই কারনে ভূত, প্রেত, রাক্ষস
এই সব কিছু ছোট কীট মাত্র।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আমাদের ফলো করুন

2,258FansLike
1,069FollowersFollow
1,569FollowersFollow
- Advertisement -spot_img

আরোও পড়ুন