Tuesday, October 4, 2022
spot_imgspot_img

যেসব নিয়ম মানলে অর্ধেকে নেমে আসতে পারে আপনার বিদ্যুৎ বিল

বিদ্যুৎ বিল আসলেই একটি চিন্তার বিষয়। মাঝেমাঝে বিদ্যুৎ বিল অনেক বাড়তি আসে, কিন্তু আমরা বুঝতেই পারিনা।

এই বাড়তি বিদ্যুৎ বিল প্রায়ই চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে কিছু বিষয় খেয়াল রাখলে খুব সহজে আবাসিক বিদ্যুৎ বিল কমিয়ে ফেলা যায়। সেরকম টিপস এবার জেনে নেয়া যাক।

১. সুইচ বন্ধ রাখা

যেগুলো ব্যবহার হচ্ছে না সেগুলো সুইচ বন্ধ রাখুন। ফ্যান, বাতি, টিভি, কম্পিউটার ব্যবহার না করলে সব সময় এগুলো সুইচ বন্ধ করে রাখায় ভালো। অনেক সময় বাথরুম, বারান্দার বাতি জ্বলতে থাকে। সেটি যাতে না হয়, তা খেয়াল রাখা হলে বিদ্যুৎ বিল বেশ খানিকটা কমে আসে। যেকোনো ইলেকট্রিক মেশিন ব্যবহার না করলে প্লাগ খুলে রাখা উচিত। এজন্য কোন কিছু যদি ব্যবহার না করেন সেটা বন্ধ করে রাখুন।

২. বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহার

আমাদের দেশে প্রচলিত হলুদ আলোর বাতির তুলনায় এনার্জিপ্যাক এলইডি লাইট ব্যবহার করা হলে, বিদ্যুতের ব্যবহার অনেক কমে আসে। যেখানে প্রচলিত একটি বাতি ব্যবহার করে ১০০ ওয়াট সেখানে একটি এনার্জি বাতি ব্যবহার করে মাত্র ২৫ ওয়াট। এনার্জিপ্যাক এলইডি লাইট গুলোর ক্রয় মূল্য বেশি মনে হলেও এগুলো দীর্ঘদিন সেবা দেয়। এবং বিদ্যুৎ বিলের জন্য অনেক বেশি সাশ্রয়ী হয়।

৩. প্রয়োজনমত এসির ব্যবহার

এছাড়াও এখন ইনভার্টার যুক্ত ফ্রিজ, এসি, ওয়াশিং মেশিন পাওয়া যায়। এসব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ বিল দুই-তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনা সম্ভব। বাসাবাড়িতে এসির ব্যবহার এখন অনেক বেশি নিয়মিত ঘটনা। কিন্তু নিয়ন্ত্রিতভাবে এসি ব্যবহার করা গেলে এর বিল কমিয়ে আনা সম্ভব। সেজন্য এর তাপমাত্রা সব সময় 25 ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখতে হবে। নির্দিষ্ট মাত্রায় ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার পর এসি বন্ধ করে ফ্যান চালানো যেতে পারে। তবে অটো স্লিপ ফিচারটি চালু করে দিয়ে রাখা ভালো। যাতে নির্দিষ্ট মাত্রায় ঠান্ডা হওয়ার পর এসি আপনা আপনি বন্ধ হয়ে যায়

৪. ভালোমানের তার ব্যবহার

আরেকটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিদ্যুতের সংযোগ ও তার। তারের উপর বিদ্যুতের বিল অনেক সময় নির্ভর করে। খারাপ মানের তার হলে, সংযোগ দুর্বল বা নড়বড়ে হলে, সেটির লো ভোল্টেজের সৃষ্টি করে। ফলে বহুতল ভবনের বিলের সাবস্টেশন পুরাতন হলে, সেটি বেশি বিলের কারণ হতে পারে। এজন্য বছরে পারবেনঅন্তত একবার এসব যন্ত্রপাতি পরীক্ষা করতে হবে। সিরিজের ফিল্টার নিয়মিত সময় পর পর পরিষ্কার করানো হলে সেটি কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। বাসায় রান্না করা খাবার গরম করার ক্ষেত্রে অনেকেই মাইক্রোওভেন ব্যবহার করে। মাইক্রোওভেন ব্যাবহার না করে গ্যাসের চুলা ব্যবহার করতে পারেন। ওয়াশিং মেশিনে গরম পানি ব্যবহার না করলে বিদ্যুৎ বিল কমে আসবে।

৫. বিদ্যুতের সীমিত ধাপের মধ্যে থাকা

বিদ্যুতের ব্যবহার অনুযায়ী একটি ধাপে একেক রকম বিল আসে। নির্ধারিত নিয়ম অনুসারে কারো যদি বিদ্যুতের ব্যবহার যদি 75 ইউনিট এর মধ্যে সীমিত থাকে তাহলে বিলাসবেশ সবচেয়ে কম আসবে। আবার 76 ইউনিট থেকে বিল বাড়তে শুরু করে। সে ক্ষেত্রে কয়েক ধাপে ভিন্ন ভিন্ন বিল তৈরি হয়। সর্বোচ্চ চার্জ আসবে যদি 600 ইউনিটের বেশি ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ বিদ্যুতের ব্যবহার কম দামের মধ্যে সীমিত রাখতে পারলে বিল কম আসবে

৬. সৌরশক্তির ব্যবহার

সবশেষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সৌর শক্তির ব্যবহার। এখন বহুতল ভবনে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে। বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থাগুলো যেখানে বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে বেশি লোডশেডিং হয়। তারাও সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারে। পাশাপাশি দিনের বেলায় ঘরের ভেতর বাতি না জানিয়ে সূর্যের আলোর সুবিধা নেয়ার প্রবণতা তৈরি করা ভালো। আবাসিক বিদ্যুৎ ব্যবহার অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে।

উপরের ধাপ গুলো মানলে মাস শেষে এবার বিলের হিসাব টা ঠিকঠাক মিলিয়ে নিবেন। পরিবর্তন আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আমাদের ফলো করুন

2,258FansLike
1,069FollowersFollow
1,569FollowersFollow
- Advertisement -spot_img

আরোও পড়ুন