Tuesday, October 4, 2022
spot_imgspot_img

যেসব মেগা প্রজেক্ট বাংলাদেশকে করবে আরও উন্নত

সারাবিশ্বে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ বর্তমানে শীর্ষে রয়েছে। খুব কম সময়ের ব্যাবধানে দেশটিতে করা হচ্ছে অনেক উন্নয়ন। উন্নয়নের পেছনে রয়েছে বাংলাদেশ সরকারের নেয়া কয়েকটি উদ্যোগ এবং প্রজেক্ট। বাংলাদেশে গত এক দশকে বেশ কয়েকটি প্রজেক্ট এর কাজ করা শুরু হয়েছিলো। এসব প্রেজক্ট এর সাইজ, বাজেটের পরিমাণ আর দেশের অর্থনীতি তে প্রভাব বিবেচনা করে, বেশ কয়েকটি প্রজেক্ট কে মেগা প্রজেক্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তার মধ্যে সরকার কয়েকটি প্রজেক্টকে ফাস্টট্রাক প্রজেক্ট হিসেবে নিয়েছে। যার মধ্যে পদ্ম সেতু, বাংলাদেশের প্রথম মেট্রোরেল প্রজেক্ট এবং প্রথম দীর্ঘতম সড়ক টাঙ্গাইল কর্ণফুলী টানেল অন্যতম। এসব প্রজেক্ট এর কাজ দ্রুততার সাথে শেষ করে ফেলার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকার। যার প্রেক্ষিতে সরকার দেশের অর্থনীতির চাকাকে আরো সক্রিয় করে তুলছে। এসব মেগা প্রজেক্ট এর মধ্যে জানাযাক কয়েকটি বড় প্রজেক্ট সম্পর্কে-

পদ্মা বহুমুখী সেতুঃ বাংলাদেশ সরকারের মেগা প্রজেক্ট গুলোর মধ্যে অন্যতম এবং উল্লেখযোগ্য দ্বিতল বিশিষ্ট সেতু হলো পদ্মা বহুমুখী সেতু। এই সেতুটির নির্মান কাজ শেষ করে ২০২২ সালের জুন মাসের মধ্যেই সরাসরি যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। সড়কের পাশাপাশি এই সেতুটিতে টেলিফোন ইন্টারনেট ও গ্যাস লাইনের পাশাপাশি রেল সংযোগ থাকবে যার প্রেক্ষিতে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২৩ টি জেলা প্রথমবার রেল-নেটওয়ার্ক এর সাথে যুক্ত হবে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে যেহেতু এর আগে কোন রেল-নেটওয়ার্ক ছিল না তাই বাংলাদেশ রেলওয়েকে সম্পূর্ণ নতুন রেলওয়ে নেটওয়ার্ক স্থাপন করতে হচ্ছে।

প্রজেক্ট এর ওয়েবসাইট তথ্যসূত্রে ঢাকার কমলাপুর থেকে গেন্ডারিয়া, কেরানীগঞ্জ পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে, যশোর পর্যন্ত ১৭২ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মাণ করা হবে। নতুন এই রেলপথের জন্য ৬৬ টি মেজর ব্রিজ নির্মাণের পাশাপাশি ২৪৪টি ছোট ও মাঝারি ব্রিজ, কালভার্ট ও আন্ডারপাস নির্মাণ করা হবে। এছাড়া স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম প্রচুর অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ভবনসহ আনুষঙ্গিক উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি আরও ১৪টি নতুন স্টেশন নির্মাণ করা হবে এই প্রযুক্তির আওতায়। দেশের দক্ষিণাঞ্চলকে ঘিরে চলমান এই প্রজেক্টের বর্তমান বাজেট ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা।

রুপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ~ ছবিঃ সংগৃহীত

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রঃ বাজেটের দিক থেকে সর্বোচ্চ পরিমাণ বাজেট নিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের মেগা প্রজেক্ট এর মধ্যে সবচেয়ে বড় একটি প্রজেক্ট। এই প্রযুক্তি সম্পন্ন হলে বিশ্বের পাওয়ার জেনারেটিং দেশের তালিকায় যুক্ত হবে বাংলাদেশ। প্রযুক্তি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রনালয়ের আওতাভুক্ত বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি কমিশন এবং কনস্ট্রাকশন এর দায়িত্বে আছে রাশিয়ান ফেডারেশনের টেকনিক এনার্জি কর্পোরেশন।

বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ ১৯৬১ সালে নেয়া হয় এবং সে লক্ষ্যে পাবনা জেলার রূপপুরে প্রকল্প এলাকার জন্য প্রায় ২০০ একর জমি প্রকল্পের জন্য এবং আবাসিক এলাকার জন্য ৩২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হলেও প্রজেক্টি পরবর্তীতে আর সম্পন্ন করা হয়নি। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে প্রজেক্টটি নিয়ে আবারও কার্যক্রম শুরু হয় এবং ২০১১ সালে ২ ইউনিট বিশিষ্ট এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন সংক্রান্ত সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়। যার প্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের মধ্যে দুটি কোম্পানি চুক্তি স্বাক্ষর করেন। ২০২৫ সালে সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও প্রথম ইউনিটটি ২০২৩ সালের মধ্যে চালু হয়ে যেতে পারে। ১ লক্ষ ১৩ হাজার কোটি টাকার এই প্রোজেক্টের ৮০ শতাংশ ফাইন্যান্সিং করছে রাশিয়া এবং বাকি টুকু বাংলাদেশ সরকার ফাইন্যান্সিং করছে বাংলাদেশ সরকার।

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ~ ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েঃ ঢাকার যানজট কমাতে বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি ফ্লাইওভার নির্মাণ করেছে এবং মেট্রোরেল নির্মাণের কাজ করে যাচ্ছে। ঢাকার যানজট সমস্যা নিরসনে চলমান আরেকটি প্রজেক্ট হচ্ছে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। চট্টগ্রাম হাইওয়ে কুতুবখালী থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর এলাকার পর্যন্ত চার লেন সম্বলিত ১৯.৭৩ কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়ে।

বিমানবন্দর থেকে কুড়িল বনানী-মহাখালী-তেজগাঁওয়ে মগবাজার-কমলাপুর ও সায়েদাবাদ দিয়ে কুতুবখালী এসে ঢাকা চট্টগ্রাম হাইওয়ে সাথে মিলবে প্রায় ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এক্সপ্রেসওয়েতে উঠানোর জন্য একটি করে স্ট্যাম্প থাকবে যেগুলোর মোট দৈর্ঘ্য হবে ২৭ কিলোমিটার প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ করছে সড়ক ও পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বাংলাদেশ ব্রিজ অথরিটি। প্রকল্পের আওতায় করা এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা যার মধ্যে ২হাজার ৪১৩ কোটি টাকা ইনভেস্ট করবে বাংলাদেশ সরকার এবং বাকি আসে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কাছ থেকে শুরু হওয়া এ প্রকল্পটির ২০২৩ সাল নাগাদ শেষ হবে বলে কর্তৃপক্ষ আশাবাদী। তবে ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকা শাহজালাল. বিমানবন্দর থেকে তেজগাও রেলগেট পর্যন্ত অংশ খুলে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলাদেশের মেগা প্রজেক্ট গুলোর মধ্যে এই তিনটি প্রজেক্ট ছিল অন্যত্তম। এসব প্রজেক্ট গুলো সঠিক ভাবে বাস্তাবায়ন হলে দেশের অর্থনীতিকে করবে আরও সচল উন্নত হবে দেশের মানুষের জনজীবন এবং বিশ্বের মাঝে বাংলাদেশ নিজেকে উপস্থাপন করতে পারবে নতুন রূপে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আমাদের ফলো করুন

2,258FansLike
1,069FollowersFollow
1,569FollowersFollow
- Advertisement -spot_img

আরোও পড়ুন