Tuesday, October 4, 2022
spot_imgspot_img

রিফারবিশড ফোন কি? এই ফোনগুলো কেনার আগে কি কি জানতে হবে?

বর্তমান সময়ে Refurbished শব্দটি সম্পর্কে জানেনা এমন কেউ মনেহয় না আছে। আপনি যদি রেগুলার ইন্টারনেট ব্যাবহার করেন এবং অনলাইন কেনাকাটা করেন তাহলে হয়তবা আপনি Refurbished নামক এই শব্দটি খেয়াল করেছেন। এখনকার সময়ে, বড় বড় সব ইকমার্স ওয়েবসাইটে রিফারবিশড ফোন, রিফারবিশড ল্যাপটপ, রিফারবিশড ডেক্সটপ পার্টস ইত্যাদি দেখা যায়। আর এসব পন্যের মূল্য নতুন পণ্যর থেকে তুলনামূলক অনেক কম হয়ে থাকে।

এই কারণে, অনেকেই বুঝতে পারেনা এই পণ্য গুলোর দামের মধ্যে কেন এত পার্থক্য থাকে। এজন্য আজ এই বিষয়ে আমরা আপনাকে জানাবো যে একটি রিফারবিশড ফোন কী ও এগুলি কেনার সময় আপনাকে কি বিষয়গুলি মাথায় রাখতে হবে।

এই আর্টিকেলটি মূলত রিফারবিশড ফোন নিয়ে। এখান থেকে আপনারা জানতে পারবেন
১. রিফারবিশড ফোন কি?
২. রিফারবিশড ফোন গুলো কি আমাদের কেনা উচিৎ?

রিফারবিশড ফোন কি?

প্রায় প্রত্যেকটি মোবাইল ডিভাইস এর সাথে একধরনের রিটার্ন পলিসি থাকে। আপনি যদি কোনো ইকমার্স ওয়েবসাইট থেকে মোবাইল ফোন কিনেন তাহলে তার রিটার্ন পলিসি সম্পর্কে আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে। উদাহরণ হিসেবে ধরে নেয়া যাক অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট এর মত কিছু বড় বড় ইকমার্স সাইট এর কথা। আপনি যদি এদের কাছে থেকে কোনো মোবাইল ফোন কেনেন তাহলে এদের মোবাইলে 10 দিনের মত রিটার্ন পলিসি থাকে। অর্থাৎ এর মানে হলো, আপনি যদি মোবাইল কেনার ১০ দিনের মধ্যে কোনো সমস্যা পান, তাহলে আপনি এটি ফেরত দিয়ে পেতে পারেন নতুন আরেকটি মোবাইল ফোন।

এখন ধরুন আপনি একটি মোবাইল কিনলেন যার মুল্য পড়ল বিশ হাজার টাকা। হটাত করেই এই মোবাইল চার্জে দিতে গিয়ে দেখছেন চার্জ নিচ্ছে না কিম্বা এয়ারফোন জ্যাক কাজ করছে না। আপনি দ্রুত এই বিষয়ে ওদের ওয়েবসাইটে অভিযোগ দিলেন। এবং তারা আপনাকে আপনার ফোনের পরিবর্তে আরেকটি নতুন ফোন দিয়ে দিলো। আপনার সমস্যা এখানেই শেষ কিন্তু,

কোম্পানি এখন আপনার ফেরত দেয়া ফোন নিয়ে কি করবে?

তারা এই ফোন গুলোকে মেরামত করবে। তারপর চালাবে ফোনের উপর বিভিন্ন রকম পরিক্ষা, রেজাল্ট যদি পসিটিভ হয় তাহলে প্রক্রিয়াটি শেষ হওয়ার পরে কোম্পানিটি আবার সেই ফোনকে ওয়েবসাইটে রিফারবিশড বা আনবক্সড ক্যাটাগরিতে তালিকাভুক্ত করবে। আশাকরি বুঝতে পেরেছেন রিফারবিশড ফোন কি।

আপনার কি রিফারবিশড ফোন কেনা উচিত?

রিফারবিশড ফোন গুলো মাঝে মাঝে অনেক ভালো ও হয়ে থাকে। নতুন ফোন না কিনে একটি রিফারবিশড ফোন কিনলে, আপনি আপনার পছন্দের ফোন পাচ্ছেন তুলনা মূলক অল্প মুল্যে যার মাধ্যমে আপনার সাশ্রয় হচ্ছে। তবে যদি ক্ষতির হাত থেকে বাচতে চান তাহলে আপনাকে মাথায় রাখতে হবে কিছু কিছু বিষয় যেমন-

  • বিশ্বাসযোগ্য ওয়েবসাইট

সর্বদা একটি বিশ্বাসযোগ্য ওয়েবসাইট থেকে ফোন কিনবেন। উদাহরন হিসেবে অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট, স্নাপডিল ইত্যাদি ওয়েবসাইট কে ধরা যায়। তারা তাদের ব্যাবহারকারীদের সমস্যা দুর করতে সর্বদা এগিয়ে থাকে।

  • রিটার্ন পলিসি

শুধু রিফার্বিশড মোবাইল নয়, অনলাইনে যে কোন প্রোডাক্ট কেনার সময়, তার রিটার্ন পলিসি অবশ্যই চেক করবেন । রিফার্বিশড মোবইল ফোনে ন্যূনতম ১০ দিনের রিটার্ন পলিসি প্রয়োজন যা প্রায় অনেক ওয়েবসাইটই দিয়ে থাকে। এই সময়টার মাঝে আপনি যদি আপনার ফোনে কোন সমস্যা দেখতে পান, তাহলে আপনি এটি রিটার্ন করতে পারবেন।

  • সঠিক মুল্য

রিফারবিশড ফোন কেনার পুর্বে এর মুল্য সম্পর্কে ধারনা থাকতে হবে আপনাদের। ৫০০-১০০০ টাকা সাশ্রয় করার জন্য কখনোই রিফারবিশড ফোন কেনার কথা ভাববেন না। যদি আপনার মোবাইল ২০ হাজার টাকার হয় এবং আপনি একই মোবাইল ১৭-১৮ হাজার টাকায় পাচ্ছেন, তাহলে রিফারবিশড ফোন কেনা বোকামির কাজ হবে।

  • ওয়ারেন্টি পলিসি

একটা রিফারবিশড ফোন কেনার সময় আপনাকে এর ওয়ারেন্টি পলিসি সম্পর্কে জানতে হবে। আপনার ফোনে কমপক্ষে ৬মাসের ওয়ারেন্টি থাকা আবশ্যক।

আজকের আর্টিকেল এখানেই শেষ করছি। আশাকরি রিফারবিশড ফোন সম্পর্কে এখান থেকে অনেক কিছু জানতে পেরেছেন।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আমাদের ফলো করুন

2,258FansLike
1,069FollowersFollow
1,569FollowersFollow
- Advertisement -spot_img

আরোও পড়ুন