Tuesday, October 4, 2022
spot_imgspot_img

সৃজনশীল প্রশ্নে ভালো মার্ক পাওয়ার সঠিক নিয়ম

আমরা অনেকেই পরিক্ষার সময় সৃজনশীল ঠিকঠাক ভাবে লিখতে সমস্যা হয়। আবার অনেক সময় আমরা সৃজনশীলে মার্ক কম পেয়ে থাকি। এর প্রধান কারন হচ্ছে আমরা সৃজনশীল লেখার নিয়ম ঠিকমতো জানিনা। কিছু নিয়ম মেনে সৃজনশীল লিখলে পরিক্ষার খাতায় ভালো মার্ক পাওয়া যায় এবং লেখাগুলো সুন্দর হয়। তো চলুন জেনে নেই,


সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর লিখার সঠিক নিয়ম:

ক: জ্ঞানমূলক প্রশ্ন-

এক বাক্যে শেষ করা উচিত। যদি দরকার পড়ে ২ বাক্যের ব্যবহার করা যায়, কিন্তু এর বেশি নয়।


খ: অনুধাবনমূলক প্রশ্ন-

২টি প্যারার মাধ্যমে এই প্রশ্নের লিখতে হবে। ১ম প্যারাটিতে ১-৩ বাক্যের মধ্যে শেষ করা উচিত। ১ম প্যারায় সাধারণত উত্তরটির সারাংশ লিখতে হয় বা প্রশ্নের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বাক্য লিখতে হয়।

২য় প্যারায় মূল উত্তরটির ব্যখ্যা সাজিয়ে লিখতে হবে। এই প্যারায় ৫-৮ বাক্যের ব্যবহার করা যেতে পারে। অপ্রাসঙ্গিক লেখা এড়িয়ে যেতে হবে। শেষ লাইনে সেই প্রথম প্যারার প্রথম লাইনকেই একটু ভিন্ন আঙ্গিকে আবার লিখতে হবে যেন লেখাটির সামঞ্জস্য বজায় থাকে।


গ: প্রয়োগমূলক প্রশ্ন-

এখানে ৩টি প্যারার সাহায্যে উত্তর লিখতে হবে। ১ম প্যরায় প্রশ্নে যা চেয়েছে তা সোজাসুজি লিখে দিতে হবে। ২ বাক্যের বেশি ব্যবহার করা উচিত হবে না।

২য় প্যারায় প্রশ্নে যা চেয়েছে তার একটু ব্যখ্যা লিখতে হবে যা প্রশ্নের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। এখানে অনুধাবন ধাঁচে উত্তর সাজাতে হবে যেখানে ৪-৭ বাক্যের ব্যবহার করা যেতে পারে। এখানে উদ্দীপকের কোনো কিছুর উল্লেখ করা যাবে না।

৩য় প্যারায় প্রশ্নে যা চেয়েছে তা প্রায়োগিক রূপে লিখতে হবে। অর্থাৎ উদ্দীপকের সাথে প্রশ্নে যা চেয়েছে তা পাঠ্যবইয়ের আলোকে মিল ও যোগসূত্র ঘটানো। উদ্দীপক এখানে বিশ্লেষণাত্মক আকারে লিখতে হবে। কোনো অবস্থায় উদ্দীপক সম্পূর্ণ কপি করে তুলে দেওয়া যাবে না। এখানে উত্তর লিখতে হবে ৫-৮ বাক্যের মাধ্যমে।


ঘ: উচ্চতর দক্ষতামূলক প্রশ্ন-

৪টি প্যারার মাধ্যমে লিখতে হবে। ১ম প্যারায় প্রশ্নে যা চেয়েছে তা জ্ঞানমূলক আকারে লিখতে হবে। যদি মতামত চায় তাহলে মতামতের সারাংশ বা “হ্যাঁ/না” এক বাক্যে যথাযথ উপায়ে লিখতে হবে।

যেহেতু ২য় প্যারার উত্তর প্রশ্নটিতে কি চেয়েছে তার উপর নির্ভর করে তাই এই প্যারায় কি লেখা উচিত তা বলা কিছুটা কঠিন। যদিও সর্বোত্তম হয় প্রশ্নে যা চেয়েছে তা পাঠ্যবইয়ের আলোকে কিছুটা আলোচনা করা যেখানে প্রশ্নের বা উদ্দীপকের কোনো উল্লেখ থাকবে না। এটি ৩-৬ বাক্যের হলে ভালো হয়।

৩য় প্যারায় প্রশ্নে যে বিষয়টির আলোচনা করতে বলা হয়েছে উদ্দীপকের সাথে মিল রেখে বইয়ের আলোকে আলোচনা করতে হবে। এখানে ৫-৯ বাক্যের ব্যবহার করা উচিত। এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্যারা এই প্রশ্নের মধ্যে। তাই এটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে উত্তর করা উচিত।

৪র্থ প্যরায় মূলত নিজের মতামত দিতে হয়। এখানে উপরের আলোচনা সংক্ষিপ্তভাবে নিজের মতামত যোগ করে লিখতে হবে। সর্বশেষ বাক্যে সেই প্রথম বাক্যের ই পুনরাবৃত্তি ঘটবে একটু ভিন্ন রূপে। এই বাক্যে “উপরিউক্ত আলোচনা হতে…..” বাক্যাংশটি লেখা উচিত। এই প্যারাটি ৩-৭ বাক্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে ভালো।


কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:

  • “ক” ও “খ” যদি এক পৃষ্ঠায় শেষ হবার পর নিচে জায়গা থাকে তাহলে সেখান থেকে “গ” শুরুর প্রয়োজনীয়তা নেই। P.T.O লিখে পরের পৃষ্ঠা থেকে “গ” শুরু করা উচিত।
  • কোনো প্রশ্নের উত্তর শেষ হলে তার নিচে দুই আঙ্গুল সমান জায়গা ফাঁকা রেখে পরের প্রশ্নের উত্তর শুরু করা উচিত। জায়গা ফাঁকা না রাখলে শিক্ষক অনেক সময় ২টি প্রশ্নকেই একটি প্রশ্ন ভেবে ভুল করতে পারেন। যদিও মাঝে প্রশ্নের নম্বর লিখলে এই ঝামেলা নেই।
  • প্রতি প্যারার পর একটু ভালো পরিমাণ স্পেস (এক আঙ্গুল পরিমাণ বা একটু বেশি) রেখে পরের প্যারা শুরু করা উচিত।
  • “ক” ও “খ” এক পেজে।”গ” আরেক পেজে এবং “ঘ” ১.৫ থেকে ২ পেজের মধ্যে উত্তর করা উচিত।
  • ভিন্ন রঙের কালি দিয়ে হাইলাইট করতে চাইলে নীল বাদে অন্য রঙ ব্যবহার করা উচিত না (সবুজ আর লাল তো কোনোমতেই ব্যবহার করা যাবে না)।
  • উপরের সৃজনশীল স্ট্রাকচার যে সবসময় কাজ করবে তা নয়। কিন্তু বেশিরভাগ প্রশ্নের উত্তরে এই নিয়ম ফলো করলে সর্বোচ্চ মার্কস পাওয়া সম্ভব।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আমাদের ফলো করুন

2,258FansLike
1,069FollowersFollow
1,569FollowersFollow
- Advertisement -spot_img

আরোও পড়ুন