Tuesday, October 4, 2022
spot_imgspot_img

টরেন্ট কি? টরেন্ট ব্যাবহার কি অবৈধ?

টরেন্ট এই শব্দটা শুনলেই আমাদের মাথায় প্রথমে আমাদের মাথায় আসে ক্রাক সফটওয়্যার, ক্র্যাক গেমস কিংবা পাইরেটেড মুভি। আমরা ধরেই ফেলি যে টরেন্ট মানেই পাইরেসি। টরেন্ট মুলত ডাউনলোডিং এর একটা প্রসেস। আমরা সংক্ষেপে এটাকে টরেন্ট নামে ডাকি কিন্তু এর আসল নামটা হচ্ছে বিটটরেন্ট।

টরেন্টকে বুঝার জন্য আগে বুঝতে হবে ডাউনলোড প্রসেস সম্পর্কে। আমরা ইন্টারনেটে যখন কোন কিছু ডাউনলোড করি কিন্তু কোন একটা সেন্ট্রাল সার্ভার থেকে ডাউনলোড হয়। মানে ফিজিক্যাল একটা সার্ভার এ একটা ফাইল রাখা থাকে যা ফিজিক্যাল হার্ডডিস্ক কিংবা এসএসডি তে রাখা থাকে। একটা ফাইল সেই ফাইলটা আমরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে ডাউনলোড করি। আমি, আপনি অর্থাৎ লাখ লাখ মানুষ যখন সেই ফাইলটা ডাউনলোড করে সেটা কিন্তু শুধুমাত্র একটা ফিজিক্যাল স্টোরেজ থেকেই থেকে ডাউনলোড হয়। যে কারণে এই সার্ভার গুলোতে অনেক লিমিটেশন থাকে এবং লার্জ ফাইল ডাউনলোড করতে গেলে ডাউনলোড অনেক স্লো হয়। ডাউনলোড হওয়ার সময় অফ হয়ে গেলে আবার রিজিউম করা যায় না এছাড়াও থাকে নানা রকমের সমস্যা।

এসব সমস্যা সমাধানের জন্যই বিটটরেন্ট আবিষ্কৃত হয়। এর কাজ হচ্ছে আমার আপনার কম্পিউটার গুলোকে ডিসেন্ত্রালাইজ ভাবে প্রত্যেকটা একটা সার্ভার বানিয়ে ফেলা। তারমানে আমার কম্পিউটারে যদি একটা ফাইল থাকে, আমার কম্পিউটার একটা সার্ভার হয়ে যাবে এবং আপনি আমার কম্পিউটার থেকে সেই ফাইলটা ডাউনলোড করতে পারবেন। আপনি যখন ডাউনলোড করবেন তখন আপনার কম্পিউটার সার্ভার হয়ে যাবে এবং আপনার কম্পিউটার থেকে অন্য একজন ডাউনলোড করতে পারবে। তখন আমার কম্পিউটার আপনার কম্পিউটার দুইটাই সার্ভার হয়ে যাবে, একটা ফাইল দুইটা সার্ভারে আছে এবং এই দুইটা সার্ভার থেকে তৃতীয় একজন মানুষ ডাউনলোড করতে পারবে। এভাবে একটা খুব সুন্দর peer-to-peer ইন্টিগ্রেটেড একটা নেটওয়ার্ক তৈরি হয়ে যায়।

টরেন্ট থেকে ডাউনলোড কিভাবে করা যায়?

আমরা যদি একটা ফাইল টরেন্টে শেয়ার করতে চাই। তাহলে আমি আমার ফাইলটার একটা টরেন্ট ফাইল জেনারেট করব যেটা হচ্ছে .torrent ফাইল। এবং এটা একটা টরেন্ট ক্লাইন্ট ফাইলের মাধ্যমে করতে হয়। আর জনপ্রিয় কিছু টরেন্ট ক্লাইন্ট গুলো হলোঃ uTorrent, bitTorrent qBittorrent ইত্যাদি। এরকম আরো অনেক টরেন্ট ক্লায়েন্ট সফটওয়্যার আছে যেগুলো থেকে আমরা মূলত টরেন্ট ফাইল ডাউনলোড করতে পারি।

টরেন্ট ফাইল জেনারেট করার পর টরেন্ট ফাইল টা কারো সাথে শেয়ার করার পরে, সেই ব্যক্তি যখন টরেন্ট ফাইল টা ওপেন করবে টরেন্ট ক্লায়েন্ট দিয়ে তখনই কিন্তু আমার কম্পিউটারের সাথে কানেক্টেড হয়ে যাবে। আমার আইপির সাথে কানেক্ট হওয়ার পর আমার কম্পিউটারে ফাইল টা আছে সেটা ছোট ছোট পিছ হিসেবে ভেঙে ভেঙে আপনার কম্পিউটারে ডাউনলোড হতে থাকবে। একই সাথে যদি তৃতীয় কোনো ব্যক্তি এই টরেন্ট ফাইল টা ইউজ করে তখন যে পিছ গুলো আপনার কম্পিউটারে ডাউনলোড হচ্ছে সেটা আবার আপলোড হতে থাকবে তৃতীয় ব্যক্তির কম্পিউটারে পিস পিস করে। টরেন্ট ফাইল কিন্তু ভেঙে ভেঙে পিস পিস করে। এখানে যে ব্যক্তি গুলো আছে এদের একটা নাম আছে। যেমন যদি আমি আপলোড করি তাহলে তখন আমাকে বলা হবে seeder এবং যে ডাউনলোড করছে তাকে বলা হয় leecher।

টরেন্ট এর একটা বড় সুবিধা হলো এখানে অনেক বড় বড় ফাইল খুব সহজেই ঝামেলা মুক্ত ভাবে ডাউনলোড করা যায়। এখানে ডাউনলোডের ক্ষেত্রে অনেক বড় সুবিধা পাওয়া যায় সেটা হলো resume এর সুবিধা। সুতরাং আপনি চাইলে ডাউনলোড দিয়ে ঘুমিয়ে যেতে পারেন। কম্পিউটার বন্ধ করে দিতে পারেন। আবার কম্পিউটার চালু করলে দেখবেন ডাউনলোড হওয়া অটোমেটিক শুরু হয়ে গিয়েছে। আপনি চাইলে pause করা ডাউনলোড ৩-৪ দিন পরেও resume করতে পারবেন। এছাড়াও কিছু কিছু বড় বড় কোম্পানী আছে তারা তাদের বড় বড় গেম ফাইল গুলো টরেন্ট এ শেয়ার করে, এছাড়াও কিছু কিছু মুভির Blu-Ray প্রিন্ট অনেক বড় সাইজের হয় যা টরেণ্ট এর মাধ্যমে শেয়ার করা অনেক সহজ হয়ে যায়।

এখন আমরা বুঝতেই পারছি টরেন্ট ব্যবহার এর ভালো কিছু কারন আছে কিন্তু যেহেতু এটা একটা ডিসেন্টালাইজড সিস্টেম এবং কোনো সেন্ট্রাল সার্ভার নেই সেহেতু এটা ট্রাকিং করা পসিবল না। সাইবার সিকিউরিটির যেসব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যারা আছে তারা তাদের ধরতে পারে না। এজন্য মানুষ পাইরেসির জন্য টরেন্ট ব্যবহার করে। যার জন্য আমরা এটাকে অবৈধ্য মনে করি।

কিন্তু টরেন্ট হলো একটা অন্যত্তম টেকনোলজি এবং আমাদের এটাকে ভালো করে ব্যবহার করা উচিৎ বলে আমি মনে করি।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আমাদের ফলো করুন

2,258FansLike
1,069FollowersFollow
1,569FollowersFollow
- Advertisement -spot_img

আরোও পড়ুন